Tuesday, December 31, 2024

ভূমির দলিল নিবন্ধন সেবায় সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি: টিআইবি - ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এড়াতে বিশেষ করে অবৈধ দখল রোধ করতে বাংলাদেশের আইনে জমির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কিন্তু সরকারের বাধ্যতামূলক এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় নিবন্ধনের জন্য আসা মানুষদের।

ভুক্তভোগী বেশ কজন বলেন, তারা কেউই সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিবন্ধন করতে পারেননি।

তাদের একজন শিল্পী আক্তার। ঢাকায় গত দুই বছর আগে পাঁচ জন অংশীদারের সঙ্গে পাঁচ শতাংশ জমি কিনেছিলেন তিনি।

জমির দলিল হস্তান্তরের পর যখন সেটা নিবন্ধনের জন্য তারা ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে যান, সেখানে শুরুতেই তাদের জানিয়ে দেয়া হয় সরকারের নির্ধারিত ফি-তে কোন নিবন্ধন করা যাবেনা।

শুরুতে রাজী না হলেও পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিয়ে নিবন্ধন করতে হয় তাকে।

"আমরা প্রথমে চেষ্টা করেছি যতো সময় লাগুক, সরকারি ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবো। কিন্তু আমাদের কাজটা কোনভাবেই হল না। বার বার ঘোরায়। একেকদিন একেক অজুহাত। পরে ওই এক্সট্রা টাকা দিয়েই করেছি। ধরেন সরকারি রেট থেকে ৫০-৬০ গুণ বেশি টাকা দিতে হয়েছে।" বলেন শিল্পী আক্তার।

এনামুল হক মনির তার জমি সরকারি রেটে নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও পরে ব্যর্থ হয়ে দালালের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, "আমি রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার পর ওখানকার অফিসাররা শুধু এই টেবিল থেকে ওই টেবিলে ঘোরালো। কয়েকজন বলে যে আপনার তো হেল্প লাগবে। সরাসরি কেউ দালালের কথা বলেনা। পরে দালাল নিজে থেকেই আমার কাছে আসলো, বলল যে এভাবে আমার কাজ হবেনা। পরে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করাতে হয়েছে।"

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী দলিল নিবন্ধনে এক হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ম বহির্ভূত অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে।

সরকারি নিয়মে একটি জমি নিবন্ধনে ২৮ থেকে ৪৫ কর্মদিবস সময় লাগার কথা থাকলেও বাস্তবের চিত্র পুরো ভিন্ন।

নিয়ম বহির্ভূত টাকার লেনদেন তো হয়ই তার ওপর সময়ও বেশি লাগে।

কোন গ্রাহকের থেকে কত অর্থ আদায় করা হবে সেটা দালালদের কাছে পুরো সরকারি রেটের মতোই নির্ধারিত থাকে।

ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকে এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত  "নিয়ম বহির্ভূতভাবে উত্তোলন হওয়া টাকার পঞ্চাশ শতাংশ পান সাব রেজিস্টার অফিসার। আর বাকি টাকা অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়।"

ভূমি নিবন্ধনের আগের ও পরের সব কাজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও নিবন্ধন প্রক্রিয়া হয় আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয় আনা না গেলে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হবে।

No comments:

Post a Comment

Standard Room SIze In Residential Buildings