Tuesday, December 31, 2024

জমির হিস্যা লেখার পদ্ধতি

জমির হিস্যা ভালভাবে বুঝার পূর্বে খতিয়ান, মালিক, দাগ ও জমির পরিমাণ বলতে কি বুঝায় তা ভালভাবে বুঝতে হবে। ধরি, একটি ব্যাংক একাউন্টে ১০০০০ টাকা আছে এবং সেই একাউন্টের একজন মালিক। তাহলে সেই ১০০০০ টাকার মালিক ঐ একজন ব্যক্তি। কিন্তু যদি একাউন্টের মালিক হন ৪ জন এবং সবাই যদি ঐ একাউন্টের মোট টাকার ২৫% এর মালিক হন তাহলে ৪ জন মালিকের প্রতি জন ২৫০০ টাকার মালিক। এ বিষয়টিকে আমরা টাকার হিস্যা বলতে পারি। ঠিক তেমনি একটি খতিয়ানে জমির হিস্যা বলতে বুঝায় ঐ খতিয়ানে যে কয়জন মালিক আছেন তাদের প্রত্যেকে ঐ খতিয়ানে মোট যে পরিমাণ জমি আছে তার কতটুকু জমির মালিক। ধরি একটি খতিয়ানে ১ জন মালিক- রহিম মিয়া। তাহলে রহিম মিয়া একা ঐ খতিয়ানের সকল জমির মালিক। কিন্তু যদি কোন খতিয়ানে ৪ জন মালিক থাকেন তাহলে প্রত্যেকের নামের পাশে তিনি কত ভাগ জমির মালিক তা লেখা থাকবে। একে জমির হিস্যা বলে। এবার বিষয়টিকে আরেকটু জটিল করা যাক। ধরি, একটি খতিয়ানে ৪ জন মালিক এবং রহিম উদ্দিন একজন মালিক। ঐ খতিয়ানে ১টি মাত্র দাগ এবং ঐ দাগে মোট জমির পরিমাণ ২০ শতাংশ। ধরি, রহিমের নামের পাশে জমির হিস্যার অংশে ০.৪০০ লিখা আছে। তাহলে রহিম ঐ দাগে ২০x০.৪০০= ৮ শতাংশ জমির মালিক। ধরি, অপর ৩জন জমির মালিক ক, খ ও গ এর নামের পাশে যথাক্রমে ০.১০০, ০.২৫০ এবং ০.২৫০ লেখা আছে। তাহলে ক পাবেন ২০x০.১০০= ২ শতাংশ, খ পাবেন ২০x০.২৫০= ৫ শতাংশ এবং গ পাবেন ২০x০.২৫০= ৫ শতাংশ। তাহলে বুঝা গেল যে, কোন খতিয়ানের মালিকগণ কে কতটুকু জমির মালিক তা যা দিয়ে বুঝানো হয় তাকে জমির হিস্যা বা অংশ বলে এবং জমির মোট পরিমাণ কে হিস্যা দিয়ে গুণ করে কোন মালিকের জমির পরিমাণ জানা যায়। পূর্বের উদাহরণে আমরা একটি মাত্র দাগ দিয়ে হিস্যার বিষয়টি বুঝলাম। কিন্তু কোন খতিয়ানে একাধিক দাগ থাকলে কি হবে। ধরি, কোন খতিয়ানে ৪ জন মালিক এবং খতিয়ানে ৮টি দাগ আছে। তাহলে ৪জন মালিকের জমির হিস্যা হিসেব করতে হবে ঐ ৮টি দাগের মোট জমির পরিমাণকে হিস্যা দিয়ে গুণ করে। নিচের চিত্রের অংশ কলামে প্রতিজন মালিকের নামের পাশে বিলগুজাবগী মৌজার ৮৫০ খতিয়ানের মোট ৩ একর ২১ শতাংশ জমির বিপরীতে প্রত্যেকের পৃথক হিস্যা লেখা আছে।


জমির হিস্যা: 
হিস্যা মানে অংশ খতিয়ানে একাধিক মালিক থাকলে কার কত অংশ সেটাই এই হিস্যা বা হারাহারি অংশ । সি এস এস এবং কিছু আর এস খতিয়ানে এই হিস্যা পুরাতন ১৬ আনার হিসাবে থাকে । আর ১৯৮৪ সালের পরে দশমিকের হিসাবে থাকে ।

১৯৬০ সালের আগে অঞ্চলে দশমিকের ব্যবহার ছিল না তাই অংশ লিখতে আনার হিসাবে লিখা হতো । একটি খতিয়ানে একাধিক মালিক থাকলে কার কত অংশ তা বোঝানোর জন্য এই অংশ বা হিস্যা কলাম।

দলিলে জমির অংশ দুভাবে লেখা হয়ে থাকেঃ-

[] হাজার পদ্ধতি বা আধুনিক পদ্ধতি ।
[] আনা গন্ডা কড়া পদ্ধতি বা প্রাচীন পদ্ধতি ।

খতিয়ানের হিস্যা দশমিক অনুযায়ী: 

খতিয়ানের হিস্যা বা অংশ ১৯৮৪ সালের পরে দশমিক হিসাবে লেখা হয় । মোট জমিকে ১.০০ বা ১.০০০ ধরা হয় । কিছু খতিয়ানে এখানে দশমিকের পরে ২টী শূন্য বা ৪টি শূন্য হিসাবে মোট জমিকে ধরা হয় । জমির পরিমাণ যাই হোক তাকে ১.০০ বা ১.০০০ ধরা হয় । এজমালি খতিয়ান হলে তাঁদের অংশ এখান থেকে বের করা হয় । যেমন নিচের খতিয়ানে মালিক ৪জন জমির পরিমাণ ৪ একর ২৭০০ অযুতাংশ বা ৪ একর ২৭ শতক প্রত্যেকের অংশ বা হিস্য আলাদা প্রথম জনের .৪০০ বাকিদের .২০০ করে তাহলে প্রথম জনের অংশ বের করার সূত্র হবে- গুন মোট জমি, (.৪০০ * ৪২৭)=১৭০.৮ শতাংশ একইভাবে বাকিদের (.২০০*৪২৭)= ৮৫.৪ শতাংশ করে জমি । এক কথায় হিস্যার সাথে মোট জমিকে গুন করবো দুটি খতিয়ান দেওয়া হলো নমুনা হিসাবে ।

খতিয়ানে একর শতাংশ অযুতাংশের হিসাব বোঝা:

জেনে রাখা ভালো খতিয়ানে শতাংশের ঘরে যদি চার সংখ্যার হিসাবে জমির পরিমাণ দেয়া থাকে তবে তা অযুতাংশ হবে, একে শতাংশে নিতে ১০০ দিয়ে ভাগ দিতে হবে । অনেক খতিয়ানে জমির পরিমাণ লেখা থাকে একরে । এখানে এক একর সমান ১০০ শতাংশ তাই যদি ৫০ শতাংশ হয় তাহলে তা ১০০ শতকে এক একর তাহলে ৫০ শতকে ৫০/১০০= ০.৫ একর হবে, ৫ শতক মানে ০.০৫ একর হবে । আবার এই ০.৫ একরকে শতকে নিতে ১০০ দিয়ে গুণ দিলেই হবে ।

[] শতক থেকে একরে নিতে ১০০ দিয়ে ভাগ
[] আর একর থেকে শতকে নিতে ১০০ দিয়ে গুন

আনা গন্ডা কড়া ক্রান্তি তিলের হিসাব: 

পুরাতন খতিয়ানের হিস্যা বের করতে হলে মোট ৫টি একক জানতে হবে ।

> আনা
> গন্ডা
> কড়া
> ক্রান্তি
> তিল

এগুলোর প্রথমটি দ্বিতীয়টির চেয়ে বড়। এদের মধ্যে সম্পর্ক হল-

> ১৬ আনা = পূর্ণ সম্পত্তি খতিয়ানে মোট জমি যাই হোক তাই ১৬ আনা । 
> এক আনা = ২০ গন্ডা ।
> ১গন্ডা = ৪ কড়া ।
> ১কড়া = ৩ ক্রান্তি ।
> ১ ক্রান্তি = ২০ তিল।

খতিয়ানের মোট জমি ১৬ আনা হলে এই জমিকে আমরা এই ভাবে লিখতে পারি-

> ১৬ আনা সমস্ত জমি ।
> ১৬*২০ = ৩২০ গন্ডা সমস্ত জমি ।
> ৩২০*৪ = ১২৮০ কড়া সমস্ত জমি ।
> ১২৮০*৩ = ৩৮৪০ ক্রান্তি সমস্ত জমি ।
> ৩৮৪০*২০ = ৭৬৮০০ তিল সমস্ত জমি ।

আনার সর্বোচ্চ সংখ্যা ১৬ কিন্তু লেখা হয় ১৫ পর্যন্ত ।
কারণ ১৬ হলে তখন আর আনা লেখা হয়না বরং পূর্ণ সম্পত্তি বা এক লেখা হয় । এমনিভাবে-

> গন্ডার সর্বোচ্চ সংখ্যা ২০ কিন্তু লেখা হয় ১৯ পর্যন্ত ।
> কড়ার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৪ লেখা হয় ৩ পর্যন্ত । 
> ক্রান্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা ৩ লেখা হয় ২ পর্যন্ত ।
> তিলের সর্বোচ্চ সংখ্যা ২০ লেখা হয় ১৯ পর্যন্ত ।

জমির পুরানো দিনের রেকর্ড বা খতিয়ানে অংশ বা হিস্যা লেখার পদ্ধতি এবং 

আধুনিক পদ্ধতিতে সহস্রাংশ দিয়ে অংশ/ হিস্যা লেখার পদ্ধতি পাশাপাশি নিম্নে দেখানো হল।



No comments:

Post a Comment

Standard Room SIze In Residential Buildings