ল্যাপিং কাকে বলে?
নির্মান কাজ দীর্ঘায়িত করার জন্য অনেক সময় লম্বা রডের প্রয়োজন পড়ে, প্রয়োজনিয় দৌর্ঘের রড পাওয়া না গেলে একটি রডের সাথে অন্য একটি রড জোড়া দেয়া হয। রড জোড়া দেয়ার এই পদ্ধতিকে ল্যাপিং বলা হয়।
#রডের কাজে জোন অনুসারে ল্যাপিং:
---------------------------------------------
***টেনশন জোন
-------------------------
বীম : ৬০ D
স্ল্যাব : ৬০ D
### ল্যাপিং এর পরিমান :
-------------------------------
***কলামে ল্যাপিং
---------------------
কলামে সাধারনত ১৬, ২০, ২২, ২৫, ৩২ মিমি রড ব্যবহার হয়ে থাকে
তাহলে কলামে ল্যাপিং
১৬ মিমি = ৪০x১৬ = ৬৪০ মিমি ২'-২"
২০ মিমি = ৪০x২০ = ৮০০ মিমি ২'-৮"
২২ মিমি = ৪০x২২ = ৮৮০ মিমি ৩'-০"
২৫ মিমি = ৪০x২৫ = ১০০০ মিমি ৩'-৪"
৩২ মিমি = ৪০x৩২ = ১২৮০ মিমি ৪'-৩"
***বীমের ল্যাপিং
-----------------------
বীমে সাধারনত ১৬, ২০, ২২, ২৫ মিমি রড ব্যবহার হয়ে থাকে
তা হলে বীমের ল্যাপিং
১৬ মিমি = ৬০x১৬ = ৯৬০ মিমি ৩'-২"
২০ মিমি = ৬০x২০ = ১২০০ মিমি ৪'-০"
২২ মিমি = ৬০x২২ = ১৩২০ মিমি ৪'-৫"
২৫ মিমি = ৬০x২৫ = ১৫০০ মিমি ৫'-০"
***স্ল্যাবের ল্যাপিং
-----------------------
স্ল্যাবে সাধারনত ১০, ১২, মিমি রড
ব্যবহার হয়ে থাকে
তা হলে স্ল্যাবের ল্যাপিং
১০ মিমি = ৬০x১০ = ৬০০ মিমি ২'-০"
১২ মিমি = ৬০x১২ = ৭২০ মিমি ২'-৫"
তবে বাস্তবে কাজ করার সময় কম বেশী হতে পারে।
### ল্যাপিং এর ক্ষেত্রে যা লক্ষ্য রাখতে হবে:
----------------------------------------------------
১.Generally কম্পেশন জোনে Lapping 24D থেকে 44D এবং টেনশনে 30D থেকে 60D হয়ে থাকে। বি.দ্র: এখানে হুক ছাড়া এবং হুক সহ মাপের কথা বলা হয়েছে, তাছাড়া বিভিন্ন কনসালটেন্টগন ল্যাপের ক্ষেত্রে বিভিন Code ফলো করেন।
২. খেয়াল রাখতে হবে কলাম কিংবা বিমের এক জায়গায় যেন 50% এর বেশি রডে ল্যাপ না পড়ে।
৩.কলামের ল্যাপিং জোন: L/2 বা Middle Portion এর মধ্যে ল্যাপ দিতে হবে, L/4 এর ভিতরে সর্বাধিক Stress উৎপন্ন হয় বলে এই Zone পরিহার করা উচিত।
৪. বিমের টপ বারের ল্যাপিং: Middle Third Span বা মধ্য তৃতীয়াংশে এর মধ্যে থাকবে, কারণ এই Zone এ Negative Moment থাকেনা।
৫.বিমের বটম বারের ল্যাপিং: One Third Span বা এক তৃতীয়াংশে বা L/3 এর মধ্যে থাকতে হবে, কারণ এই Zone Positive Moment থাকেনা।
৬. Spacer Bar এর ডায়া হবে 25mm [For Beam], 12mm [For Slab] এবং Spacing হবে সর্বাধিক 30”
========
বীমের ক্ষেত্রে রড বাধার নিয়ম কি ?
বীম ঢালাইয়ের আগে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে যেগুলো প্রথমে পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন করে তারপরই ঢালাই দিতে হয়। প্রথমত বীমের রড গুলো ঠিক ভাবে ডিজাইন অনুযায়ী বাধতে হবে। তা নাহলে বীম ফেইল করতে পারে।
১। মেইন রড উপর ও নিচের ২টি লেয়ারে হবে। রড বাধার সময় এক রড থেকে অন্য রডের দূরত্ব সমান করে রড বাধতে হবে।
২। অবশ্যই ১৬ মিলি-এর চেয়ে কম রড ব্যবহার করা যাবে না।
বীমের মেইন রডকে ঠিক পজিশনে রাখতে এবং বেশি পরিমাণ লোড বহন করাতে টাই রড দিয়ে বাধতে হয় ।
১। বীমের দুই পাশের টাই রডগুলো বীমের মাঝের টাই রডগুলো থেকে ঘন করে বাধতে হবে।
২। মূলত বীমের যতটুকু দৈর্ঘ্য হবে তার ৪ ভাগের ১ অংশ (L/4 ) করে দুই কর্ণারে টাই রড ঘন করে দিতে হবে। যেমন টাই রডগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব হতে পারে ৪ বা ৫ইঞ্চি ।
৩। বীমের মাঝের (L/4) অংশের রডগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব হতে পারে ৬ বা ৭ ইঞ্চি । ভালোভাবে ড্রয়িং,ডিজাইন অনুসারে বাধতে হবে।
১। উপরের স্তরে বীমের প্রান্তে এক্সট্রা টপ (L/4) পরিমান হবে।
২।বিমের মাঝে এক্সট্রা টপ বা রড দিইয়ে ভালোভাবে বাধতে হবে এর দৈর্ঘ্য হবে বীমের ৩ ভাগের ১ ভাগ L/3
৩। কলাম থেকে (L/7) বা (L/8) দূরত্বে বীমের নিচের স্তরের রডের সাথে এক্সট্রা যে রড বাধবো তাকে বলে এক্সট্রা বটম। অবশ্যই ভালোভাবে বাধতে হবে। যেখানে বেশি মোমেন্ট ও লোড বেশি পড়ে সেখানে এক্সট্রা রড দিতে হয়।
১। বীমের উপরের স্তরের রডে মাঝে জোড়া দিবো।
২। বীমের নীচের স্তরের রডে মাঝে জোড়া দিবো না। নীচের কর্ণারে ২ পাশে জোড়া হবে।বীমের দৈর্ঘ্যের L/3 অংশে।
===============
No comments:
Post a Comment