অধুনাশহরে নিজের একটি ফ্ল্যাট হবে। অনেক স্বপ্নে বোনা ইচ্ছে পূরণে পছন্দ অনুযায়ী একটি ফ্ল্যাট প্রায় ঠিকঠাক করেও নিলেন। হয়তো ভাবছেন দু-এক দিনের মধ্যেই সব চূড়ান্ত করে ফেলবেন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে ফ্ল্যাট কেনার আগে কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে আপনাকে। ফ্ল্যাট কেনার আগে প্রয়োজনীয় দিকগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। নিচে প্রধান বিষয়গুলো আরও সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
১. দলিল-দস্তাবেজ যাচাই
- ফ্ল্যাটের মালিক বা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কেনাবেচা-সংক্রান্ত যাবতীয় দলিল-দস্তাবেজ সঠিক আছে কি না যাচাই করা।
- জমির দলিলের ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা।
- জমির নামজারি করা হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া।
- রাজউকের আওতাধীন হলে বিক্রির অনুমতি আছে কি না যাচাই করা।
- অনুমোদিত নকশা মেনে ফ্ল্যাটটি নির্মাণ করা হয়েছে বা হচ্ছে কি না নিশ্চিত হওয়া।
- প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর মতামত গ্রহণ করা।
- যে প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তির ফ্ল্যাটটি কিনতে যাচ্ছেন, তার মালিকানা সঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা।
- ফ্ল্যাটের জমির তফসিল বা বিবরণ জেনে ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নেওয়া।
- আবাসন প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে জমি নিয়ে থাকলে চুক্তিপত্র যাচাই করা।
- প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি সরেজমিনে নকশার সঙ্গে বাস্তবে মিলিয়ে দেখা।
- আমমোক্তারের মাধ্যমে ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি হয়ে থাকলে আমমোক্তার সঠিক যাচাই করা।
- প্রয়োজনে প্রকৃত মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় এবং আমমোক্তারের যথাযথতা যাচাই করা।
২. স্পষ্ট আলোচনা এবং চুক্তিনামা
- ফ্ল্যাট কেনার সময় বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সব শর্ত ও প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে জেনে নেওয়া।
- খোলাখুলি আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।
- শুরুতেই চুক্তি সম্পাদন করার উদ্যোগ নেওয়া।
- চুক্তিতে সব শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।
- বিশেষভাবে লিফট, স্যানিটারিসামগ্রী, জেনারেটর, এবং পানি সরবরাহের বিষয়গুলো চুক্তিতে নির্দিষ্ট করা।
- চুক্তি সম্পাদনের পর একটি মূল কপি নিজের কাছে রাখা।
- ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ–সংযোগ আছে কি না যাচাই করা।
- বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক না আবাসিক, তা যাচাই করা।
- গ্যাস–সংযোগ আইনগতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া।
- কিস্তির মাধ্যমে টাকা পরিশোধের শর্ত থাকলে, কত কিস্তি এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের তারিখ চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।
- সব ধরনের ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময়কার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া।
৩. মামলা–মোকদ্দমার খোঁজ
- যে ফ্ল্যাটটি কিনছেন, সেটি বা সেটির জমি নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা আছে কি না, তা বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
- ভূমি কর না দেওয়ার কারণে কোনো সার্টিফিকেট মামলা আছে কি না, সেটার খোঁজ নিতে হবে।
- প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটটি সরকারের খাসজমিতে পড়েছে কি না, যাচাই করে নিন।
- কোনো ব্যাংকের কাছে ফ্ল্যাটটি বন্ধক আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।
- কোনো অর্থঋণ–সংক্রান্ত মামলায় ফ্ল্যাটটি ‘দায়বদ্ধ’ কি না, তা যাচাই করুন।
- ফ্ল্যাটটি নিলামে উঠেছে কি না, তা–ও জানা জরুরি।
৪. অনলাইনে ফ্ল্যাট কেনার সময় সতর্কতা
- বর্তমানে অনলাইনে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ রয়েছে।
- অনলাইনে ফ্ল্যাটের খোঁজখবর নিয়ে সরেজমিনে দেখেশুনে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েই ফ্ল্যাট কেনা উচিত।
- যে প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্ল্যাট কিনছেন, সেটি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত কি না, তা দেখতে হবে।
- প্রতিষ্ঠানটি রিহ্যাবের (REHAB) সদস্য কি না, তা যাচাই করতে হবে।
ফ্ল্যাট কেনার আগে সঠিক যাচাই-বাছাই আপনার ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিমুক্ত এবং সুরক্ষিত একটি লেনদেন নিশ্চিত করবে। যদি আরও কোনো তথ্য প্রয়োজন হয়, আমাকে জানাতে পারেন।
No comments:
Post a Comment