Thursday, January 23, 2025

কনস্ট্রাকশন সেফটি / নিরাপত্তা

কনস্ট্রাকশন সেফটি / নিরাপত্তাঃ-
--------------------------------------------------------
কনস্ট্রাকশনের কারণে দুর্ঘটনা অনেক সময় হয়ে থাকে। ডিজাইনের কারণে অথবা কাজের সময় অবহেলার কারণে। আগে কনস্ট্রাকশন কাজের সময় অনেক দুর্ঘটনা হতো। তাই বর্তমানে কনস্ট্রাকশনের কাজের সময় একটি স্লোগান প্রচলতি করা হয়েছে।
"সেফটি ফার্ষ্ট " বা "নিরাপত্তাই প্রধান"।
আমাদের কনস্ট্রাকশন করার সময় এই নিরাপত্তার দিকে ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আর এর জন্য কিছু করণীয় নিচে দেয়া হলো।
সাইনবোর্ড তৈরিঃ- সাইটের কাজের সময় বিভিন্ন ধরণের সাইনবোর্ড তৈরি করার প্রয়োজন হতে পারে এদের কিছু উদারণ দেয়া হলো।
সাইটের বাহিরের জন্যঃ-
১। সাবধান, কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে।
২। পার্কিং নিষিদ্ধ।
৩। পাশ কেটে চলুন।
সাইটের ভেতরেঃ-
১। ধুমপান নিষিদ্ধ
২। ভয়েড বা ফাকা স্থান, সাবধান
৩। সাবধান, বৈদ্যুতিক এলাকা
সেফটি ট্রেঃ-
উপরের কাজ করার সময় ছাদ বা ফ্লোরের চারিদিকে ফাকা থাকে। বীম বা কলাম বা ছাদের সাটার খোলা ও অন্যান্য কাজের সময় মানুষ বা অন্যকিছু নিচে পড়ে যেতে পারে। তাই এর চারিদিকে ট্রে দেওয়া হয়। প্রতি তিন তলা পরপর এই ট্রে দেওয়া জরুরী। সি.আই শীঠ ও লোহার এঙ্গেল এর সাহায্যে এই ট্রে দেওয়া হয়।
সেফটি ট্রের চওড়া সাধারণত আট ফুট হয়ে থাকে।
সেফটি নেটঃ-
জাল বা ছিদ্র যুক্ত শক্ত কাপড় দিয়ে এই নেট দেয়া হয় বিল্ডিং এর চতুর্পাশে। যাতে করে কোন কিছু পড়লে তা সাইটের বাইরে না ছিটকে পড়ে। এই নেট খাড়া থাকে এবং যেই ফ্লোরে কাজ হবে, সেই ফ্লোর পর্যন্ত করা হয়ে থাকে।
যাতে করে ঐ ফ্লোরে কাজ করার সময কোন কিছু সীমানার বাইরে ছিটকে না পড়ে।
ব্যাক্তিগত নিরাপত্তাঃ-
সাইটের সার্বিক নিরাপত্তা ছাড়াও কর্মিদের নিজস্ব নিরাপত্তারও কিছু ব্যবস্থা করতে হবে।
১। কোন কাজের সময় মাথায় শক্ত কোন কিছু দিয়ে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থকলে অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।
২। জ্যাকেট বা বেল্ট, কোন উচু জায়গাতে কাজ করার সময় এই বেল্ট ব্যবহার করা হয়। যাতে করে পড়ে গেলে এই বেল্ট ধরে রাখে। যেখানে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে সেখানে অবশ্যই এই বেল্ট পড়ে কাজ করতে হবে।
তিন মিটার উপরে এই বেল্ট লাগানো অবশ্যই জরুরী।
৩। ওয়েল্ডিং করার সময় আই শিল্ড বা কালো চশমা অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।
৪। ভয়েড সেফটিঃ- কোথাও কোন ভয়েড বা পাঞ্চ বা ফাঁকা থাকলে, যেখান থেকে পড়ে আহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন লিফট কোর, ওয়াটার রিজারভার, এয়ার ডাক্ট বা বড় কোন সেনেটারি ডাক্ট। সেই জন্য এটি ঢেকে দিতে হবে অথবা এর চারিদিকে অস্থায়ী বেড়া দিতে হবে ও সাইনবোর্ড দিতে হবে।
অগ্নি নিরাপত্তাঃ-
১। যেসকল স্থানে আগুন লাগার সম্ভাবনা আছে, সেই সকল স্থানে ধুমপান নিষিদ্ধ করতে হবে।
২। সেই জন্য "ধুমপান নিষিদ্ধ" ইনবোর্ড দেয়া যেতে পারে।
৩। বালি ও পানি রাখতে হবে কাছাকাছি এবং ফায়ার এক্টিংগুইশার রাখতে হবে।
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তঃ- এটিও একটি খুব গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। বৈদ্যুতিক লাইনের দিকে সবময় খেয়াল রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক কাজে কখনও একজনকে পাঠানো যাবে না। খালি পায়ে বৈদ্যুতিক কাজ করা যাবে না। বৈদ্যুতিক সার্কিট খোলা রাখা যাবে না এবং পানি থেকে নিরাপদ দুরে রাখতে হবে।
অন্যান্যঃ- এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ যেকোন ধরণের স্বাস্থ্য ঝুকির সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে সেই ধরণের খেয়াল রাখতে হবে ও ব্যবস্থা নিতে হবে।
যেমনঃ-
১। ফাস্ট এইড বক্স রাখতে হবে এবং এর মধ্যে ব্যান্ডেজ, সেভলন, ঔষধ থাকতে হবে।
২। হোয়েষ্ট ব্যবহার করলে এই সেটিং ঠিকমত হয়েছে কিনা দেখতে হবে।
৩। কোন বদ্ধ জায়গায় কাজ করতে গেলে অবশ্যই পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
যেমন - পানির ট্যাংক, মাটির নিচের কোন কাজ ইত্যাদি।


No comments:

Post a Comment

Standard Room SIze In Residential Buildings