বর্তমানে নতুন করে বিজনেস শুরু করলে একা সামলানো খুব কঠিন বিশেষ করে অনলাইন হলে তো কথাই নেই। ব্যাক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, ধর্মীয় আচার আচরণ একদম শেষ!
সেক্ষেত্রে পার্টনারশিপ একটা ভালো অপশন। তবে আমাদের জাতিগত সমস্যা সহ আরো কিছু খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে অনেকে পার্টনারশিপ এ যেতে চায় না।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশে পার্টনারশিপ বিজনেস গুলো শুরু সহ লামসাম ভাবে, পরে ধরা খেয়ে বলে, পার্টনারশিপ এ বিজনেস ভালো না।
বিজনেস শুরু করার আগে দরকার মূলনীতি সহ ইন্টারনাল পলিসি শক্ত করে শুরু করা। ম্যানেজমেন্ট পলিসি বিশেষ করে, মানি ম্যানেজমেন্ট পলিসি আগে থেকেই ডিফাইন ও স্ট্রিক্ট থাকা।
কিন্তু আমরা এসব না করেই আগেই সেলস এবং প্রফিট এর দিকে নজর দিয়েই ধরা খাই।
পার্টনারশিপ এ বিজনেস করার জন্য, সমমনা হওয়ার সাথে সাথে আরো কিছু বিষয় থাকে।
পার্টনারশিপ এ বিজনেস করার আগে মূলনীতি গুলো লিখিত এবং সব কিছু পলিসি আকারে থাকতে হবে।
টার্মস এন্ড কন্ডিশন আগে থেকেই লিখিতভাবে থাকা উচিত। এবং সাথে সাথে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সহ কার কি রেসপনসেবলিটি সেটা ও লিখিত পলিসি থাকতে হবে। লস এন্ড বেনেফিট শেয়ার, এবং এর সাথে সেফ এক্সিট কিভাবে হবে থাকতে হবে।
একজনকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লিডার/ আমির মেনে বাকিদের তার কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করতে হবে।
এবং আমির একটা সময়ান্তে পুরো বিজনেস এর জন্য সদস্যদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
কোন সদস্য তার দ্বায়িত্ব পালন না করলে, তার জরিমানা ও শাস্তির বিধান থাকতে হবে।
=====
পার্টনারশিপ ব্যবসা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পার্টনারশিপ নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে, তবে এর মূল কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নীতিমালা এবং স্বচ্ছতার অভাব।
আপনার উল্লেখ করা পয়েন্টগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে:
✅ লিখিত নীতিমালা ও পলিসি – ব্যবসার প্রতিটি দিক লিখিত আকারে থাকা উচিত।
✅ মানি ম্যানেজমেন্ট পলিসি – অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অর্থের হিসাব স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ হতে হবে।
✅ লিডারশিপ ও জবাবদিহিতা – নেতৃত্ব নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারণ করা এবং পারস্পরিক জবাবদিহিতা বজায় রাখা।
✅ লাভ-ক্ষতি বণ্টন ও এক্সিট প্ল্যান – আগেভাগেই নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো ঝামেলা হলে সুন্দরভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়।
✅ শাস্তির বিধান – দায়িত্ব অবহেলা করলে কী হবে, সেটাও পরিষ্কার করা জরুরি।
আপনি যদি এই বিষয়গুলো নিয়ে ব্লগ লেখেন, তাহলে অনেক উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকরী হতে পারে। আপনি কি পার্টনারশিপ বিজনেস গাইডলাইন নিয়ে বিস্তারিত ব্লগ লিখতে চান?
১. ব্যবসার আর্থিক লেনদেন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা রাখার উপায়
✅ স্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ ও রিপোর্টিং: প্রতিদিনের লেনদেন রেকর্ড রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর পার্টনারদের কাছে আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা।
✅ একটি নির্ভরযোগ্য হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা: QuickBooks, Tally, Xero বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেন ট্র্যাক করা।
✅ ব্যাংক লেনদেনের ব্যবহার: সব আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
✅ লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ: গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় লিখিত সম্মতি নিশ্চিত করা।
✅ তৃতীয় পক্ষের অডিট: নির্দিষ্ট সময় পর পর নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ দ্বারা আর্থিক অডিট করা।
✅ পার্টনারদের নির্দিষ্ট অনুমোদন স্তর নির্ধারণ: কোন পার্টনার কত টাকার লেনদেন অনুমোদন দিতে পারেন, তা নির্ধারণ করে রাখা।
✅ উন্মুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা: প্রতিটি পার্টনার যেন আর্থিক লেনদেন ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মিটিং করা।
✅ লাভ ও ব্যয়ের স্বচ্ছ বণ্টন: ব্যবসার লাভ ও ব্যয়ের হিসাব আগেভাগেই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভাগ করা এবং তা স্পষ্টভাবে রেকর্ড করা।
✅ এক্সিট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নীতি প্রণয়ন: যদি কোনো পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চান, তাহলে কীভাবে আর্থিক সমন্বয় হবে, তা আগেই নির্ধারণ করা।
================
কাজের নির্দিষ্ট বিভাজন কিভাবে করা উচিত? উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা
✅ যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করুন: প্রতিটি পার্টনারের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দায়িত্ব নির্ধারণ করুন। যেমন, একজন পার্টনার যদি ফাইন্যান্সে দক্ষ হন, তাহলে তাকে অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
✅ বিভিন্ন বিভাগ গঠন করুন:
অর্থ ও হিসাব বিভাগ: ব্যালেন্স শিট, লেনদেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট।
বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ: প্রোডাক্ট মার্কেটিং, কাস্টমার রিলেশন, সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনা।
প্রোডাকশন ও সরবরাহ বিভাগ: পণ্য উৎপাদন, স্টক ম্যানেজমেন্ট, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা।
মান নিয়ন্ত্রণ ও গ্রাহক সেবা: পণ্য বা পরিষেবার মান নিশ্চিত করা, কাস্টমার কেয়ার।
আইনি ও চুক্তি বিষয়ক বিভাগ: কোম্পানির আইনগত দিক, পার্টনারশিপ চুক্তি, কর ব্যবস্থাপনা।
✅ উদাহরণ: একটি ই-কমার্স বিজনেসে পার্টনারশিপ:
পার্টনার ১: ওয়েবসাইট পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা
পার্টনার ২: মার্কেটিং ও কাস্টমার রিলেশন
পার্টনার ৩: ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট
পার্টনার ৪: সরবরাহ ও স্টক ম্যানেজমেন্ট
✅ নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যালোচনা করুন: মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন এবং প্রয়োজন হলে নতুন পরিকল্পনা করুন।
✅ কোনো পার্টনারের ব্যর্থতা বা অনাগ্রহ থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করুন: যদি কোনো পার্টনার তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করেন, তাহলে তার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
✅ নতুন কাজের দায়িত্ব বণ্টনের সুযোগ রাখুন: ব্যবসার প্রসার ঘটলে নতুন কর্মী বা পার্টনার যুক্ত করা যেতে পারে এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা যেতে পারে।
================
লাভ-ক্ষতি ও বিনিয়োগ বণ্টন: করণীয় ও উদাহরণ
✅ বিনিয়োগের স্বচ্ছ পরিকল্পনা:
প্রতিটি পার্টনারের বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত এবং তা লিখিতভাবে চুক্তিতে থাকা আবশ্যক।
কেউ যদি অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে চান, তবে তার বিনিময়ে কতটুকু মালিকানা পাবেন, সেটি আগেই নির্ধারণ করতে হবে।
✅ লাভ বণ্টনের নিয়ম:
পার্টনারদের মধ্যে শেয়ার অনুসারে লাভ বণ্টন করা যেতে পারে।
কিছু ব্যবসায় কাজের অবদান বিবেচনায় বিশেষ বোনাস বা পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করা যেতে পারে।
✅ ক্ষতির দায়ভার:
ব্যবসার ক্ষতি হলে কীভাবে তা সামলানো হবে, তা আগেই ঠিক করা প্রয়োজন।
উদাহরণ: যদি তিনজন পার্টনার ৫০:৩০:২০ অনুপাতে বিনিয়োগ করে, তবে ক্ষতির দায়ভারও একই অনুপাতে বহন করা উচিত।
✅ লাভ-ক্ষতির হিসাব পরিচালনার স্বচ্ছতা:
প্রতিমাসে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করে সকল পার্টনারকে জানানো উচিত।
নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা অ্যাকাউন্টিং টুল ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন QuickBooks, Xero, অথবা Google Sheets।
✅ উদাহরণ:
ধরুন, একটি ই-কমার্স ব্যবসায় তিনজন পার্টনার ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন (পার্টনার A = ৫ লাখ, পার্টনার B = ৩ লাখ, পার্টনার C = ২ লাখ)।
প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা লাভ হলে, পার্টনার A পাবেন ১.৫ লাখ, পার্টনার B পাবেন ৯০ হাজার এবং পার্টনার C পাবেন ৬০ হাজার।
যদি কোনো মাসে ১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়, তাহলে পার্টনারদের অনুপাত অনুযায়ী A = ৫০ হাজার, B = ৩০ হাজার, এবং C = ২০ হাজার টাকা বহন করবেন।
✅ এক্সিট স্ট্র্যাটেজি:
কোনো পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চাইলে, তার বিনিয়োগের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা চুক্তিতে উল্লেখ থাকা জরুরি।
নতুন পার্টনার যুক্ত করার শর্তাবলিও আগেই নির্ধারণ করা উচিত।
✅ আইনি চুক্তি:
প্রতিটি আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগ ও লাভ-ক্ষতি বণ্টনের জন্য লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
প্রয়োজনে কর পরামর্শক বা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
================
নতুন পার্টনার সংযুক্ত করার শর্তাবলী
নতুন পার্টনার সংযুক্ত করার আগে কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে ব্যবসার স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্তাবলী তুলে ধরা হলো:
✅ যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাই: নতুন পার্টনারের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং মানসিকতার সঙ্গে বর্তমান পার্টনারদের সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
✅ বিনিয়োগের পরিমাণ ও শর্তাবলী: নতুন পার্টনার কত টাকা বিনিয়োগ করবেন এবং কীভাবে তিনি শেয়ার পাবেন, তা স্পষ্টভাবে চুক্তিতে উল্লেখ করা উচিত।
✅ লাভ ও ক্ষতি বণ্টনের নিয়ম: নতুন পার্টনার লাভের অংশ কীভাবে পাবেন এবং ক্ষতির ক্ষেত্রে তার দায় কতটুকু থাকবে, তা আগেই নির্ধারণ করা জরুরি।
✅ দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ: নতুন পার্টনারের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং তার বিশেষায়িত কাজের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করা উচিত।
✅ ডিসিশন-মেকিং প্রসেস: পার্টনারদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম স্পষ্ট থাকা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কি সকল পার্টনারের সম্মতি লাগবে, নাকি নির্দিষ্ট কয়েকজন পার্টনার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন?
✅ পরীক্ষামূলক সময়কাল: নতুন পার্টনারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ট্রায়াল পিরিয়ড (৬ মাস থেকে ১ বছর) রাখা যেতে পারে, যাতে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দক্ষতা যাচাই করা যায়।
✅ এক্সিট স্ট্র্যাটেজি: নতুন পার্টনার যদি ব্যবসা ছাড়তে চান, তবে তার বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার নিয়ম, শেয়ার হস্তান্তর, এবং প্রস্থান প্রক্রিয়া কী হবে, তা চুক্তিতে উল্লেখ করা আবশ্যক।
✅ আইনি চুক্তি: সমস্ত শর্তাবলী লিখিতভাবে আইনি চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ অস্পষ্টতার সুযোগ নিতে না পারে।
✅ কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট: যদি কোনো মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তাহলে তা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট বিধান থাকা জরুরি। এটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে নাকি মধ্যস্থতার প্রয়োজন হবে, তা চুক্তিতে উল্লেখ করা উচিত।
✅ গোপনীয়তা ও নীতিমালা সংরক্ষণ: নতুন পার্টনার ব্যবসার গোপনীয় তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে শেয়ার করতে পারবেন না, এ বিষয়ে কঠোর নীতিমালা থাকা উচিত। প্রয়োজনে "Non-Disclosure Agreement (NDA)" স্বাক্ষর করানো যেতে পারে।
================
লাভ-ক্ষতি ও বিনিয়োগ বণ্টন কৌশল
পার্টনারশিপ ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি ও বিনিয়োগ বণ্টনের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:
✅ লিখিত চুক্তি: পার্টনারদের মধ্যে বিনিয়োগ ও লাভ-ক্ষতির বণ্টন সম্পর্কিত চুক্তি লিখিত হতে হবে। এতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ স্বার্থবিরোধী আচরণ করতে পারবে না।
✅ সুষম বণ্টন: বিনিয়োগ অনুযায়ী লাভ ও ক্ষতির ভাগ ভাগ করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন পার্টনার ৪০% বিনিয়োগ করেন এবং অন্যজন ৬০% বিনিয়োগ করেন, তাহলে লাভ ও ক্ষতির বণ্টনও সেই অনুপাতে হওয়া উচিত।
✅ ফিক্সড সেলারি বনাম প্রফিট শেয়ার: পার্টনারদের মধ্যে কেউ কেউ মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক নিতে পারেন, আবার কেউ শুধু লাভ-ক্ষতি ভাগ নিতে পারেন। এই বিষয়টি আগেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
✅ রিইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান: ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ পুনরায় বিনিয়োগ করা উচিত। এটি কত শতাংশ হবে, তা আগেভাগেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
✅ লস কাভারেজ প্ল্যান: ক্ষতি হলে তা কীভাবে কাভার করা হবে, সে বিষয়ে আগেই নিয়ম থাকা দরকার। উদাহরণস্বরূপ, পার্টনাররা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির দায় নেবেন নাকি ব্যবসার ফান্ড থেকে ক্ষতি কাভার হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি।
✅ এক্সিট পলিসি: যদি কোনো পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চান, তবে তিনি কীভাবে তার অংশ বিক্রি করবেন বা ফেরত পাবেন, তার নিয়ম আগেভাগেই স্থির করা উচিত।
✅ সংশোধনযোগ্য চুক্তি: বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ ও লাভ-ক্ষতির শর্তাবলী সংশোধনের সুযোগ রাখা দরকার। পার্টনারদের সম্মতিতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই নীতিগুলো আপডেট করা উচিত।
✅ স্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ: ব্যবসার সমস্ত লেনদেন স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত অডিট করা এবং ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
✅ বিতর্ক সমাধানের উপায়: যদি লাভ-ক্ষতি বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনো মতবিরোধ হয়, তাহলে কীভাবে সমাধান করা হবে, তা আগেভাগেই নির্ধারণ করা উচিত।
================
যদি কোনো পার্টনার ব্যবসা ছেড়ে দিতে চায়, তাহলে কীভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে?
একজন পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চাইলে এটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে ধাপে ধাপে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। নিচে সেই ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো:
ধাপ ১: পূর্ব প্রস্তুতি ও আলোচনা
✅ পার্টনারের ব্যবসা ছাড়ার কারণ বিশ্লেষণ করা।
✅ অন্য পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
✅ ব্যবসার স্থিতিশীলতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা।
ধাপ ২: আইনি ও চুক্তিগত দিক পর্যালোচনা
✅ পূর্বের পার্টনারশিপ চুক্তিতে এক্সিট প্রক্রিয়ার শর্তাবলী পর্যালোচনা করা।
✅ আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা (যদি প্রযোজ্য হয়)।
✅ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করা।
ধাপ ৩: শেয়ার ও সম্পদের সমন্বয়
✅ পার্টনারের শেয়ার হস্তান্তরের নিয়ম ঠিক করা।
✅ পার্টনারের বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন সম্পন্ন করা।
✅ ব্যবসার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করা।
ধাপ ৪: হিসাব-নিকাশ ও ঋণ পরিশোধ
✅ পার্টনারের প্রাপ্য লাভ বা ক্ষতি হিসাব করে পরিশোধ করা।
✅ ব্যবসার দেনা-পাওনা নির্ধারণ ও নিষ্পত্তি করা।
✅ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক নথিপত্র হালনাগাদ করা।
ধাপ ৫: দায়িত্ব হস্তান্তর ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা
✅ পার্টনারের দায়িত্ব অন্য কোনো পার্টনারকে হস্তান্তর করা।
✅ গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের জানানো (যদি প্রয়োজন হয়)।
✅ সমস্ত চুক্তি ও নথিপত্র আপডেট করা।
ধাপ ৬: অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন ও সমাপ্তি
✅ পার্টনারশিপ ডিড বা চুক্তিপত্র সংশোধন করা।
✅ ব্যবসা সংক্রান্ত আইনি কাগজপত্র আপডেট করা।
✅ পার্টনারশিপ থেকে প্রস্থান সংক্রান্ত লিখিত সমঝোতা সম্পন্ন করা।
================
পার্টনারশিপ ব্যবসার জন্য একটি আইনগত কাঠামো থাকা জরুরি কেন? কি কি আইনগত কাঠামো সংযুক্ত করা উচিত?
পার্টনারশিপ ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে আইনি কাঠামোর উপর। একটি সঠিক আইনি কাঠামো পার্টনারদের স্বার্থ রক্ষা করে, দ্বন্দ্ব নিরসন সহজ করে এবং ব্যবসার নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করে। নিচে প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামোর উল্লেখ করা হলো:
✅ পার্টনারশিপ চুক্তি: প্রতিটি পার্টনারের দায়িত্ব, অধিকার, শেয়ার, বিনিয়োগ, লাভ-ক্ষতি বণ্টন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, এক্সিট স্ট্র্যাটেজি ইত্যাদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
✅ বাণিজ্যিক নিবন্ধন: বাংলাদেশে যৌথ ব্যবসার জন্য RJSC (Registrar of Joint Stock Companies & Firms) এর মাধ্যমে পার্টনারশিপ নিবন্ধন করা উচিত।
✅ ট্রেড লাইসেন্স: স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা আবশ্যক।
✅ ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) ও ভ্যাট নিবন্ধন: পার্টনারশিপ ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় ট্যাক্স সংক্রান্ত সকল নিয়ম মেনে TIN এবং VAT নিবন্ধন করতে হবে।
✅ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: পার্টনারশিপের নামে একটি কর্পোরেট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন, যাতে সমস্ত লেনদেন স্বচ্ছ থাকে।
✅ শ্রম আইন ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনা: যদি ব্যবসায় কর্মচারী থাকে, তবে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার।
✅ ডিসপিউট রেজোলিউশন মেকানিজম: পার্টনারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে সেটি কীভাবে সমাধান করা হবে, তা স্পষ্টভাবে চুক্তিতে উল্লেখ করা জরুরি। প্রয়োজনে আরবিট্রেশন ক্লজ সংযোজন করা যেতে পারে।
✅ নন-কম্পিট ক্লজ: পার্টনার যদি ব্যবসা ছেড়ে যান, তবে তিনি একই ধরণের ব্যবসায় প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
✅ বীমা ব্যবস্থা: ব্যবসার জন্য উপযুক্ত বীমা নেওয়া উচিত, যাতে ব্যবসার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
================
প্রতিদিনের অর্থ লেনদেনের কি কি নিয়ম একটি আদর্শ পার্টনারশিপ চুক্তিতে উল্লেখ করা প্রয়োজন
পার্টনারশিপ ব্যবসায় অর্থ লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত নিয়মগুলো চুক্তিতে উল্লেখ করা প্রয়োজন:
✅ ব্যাংক লেনদেন বাধ্যতামূলক: সমস্ত আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করতে হবে, যেন প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে।
✅ ব্যবসার জন্য পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: পার্টনারশিপ ব্যবসার জন্য একটি পৃথক কর্পোরেট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক হতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক অর্থ লেনদেন আলাদা রাখা যায়।
✅ প্রতিদিনের লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ: প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখিত এবং ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে।
✅ নির্দিষ্ট পরিমাণের ওপরে অনুমোদন প্রয়োজন: নির্দিষ্ট পরিমাণের (যেমন ১০,০০০ বা ৫০,০০০ টাকা) বেশি অর্থ লেনদেন করতে হলে নির্ধারিত পার্টনারদের সম্মতি বা স্বাক্ষর লাগবে।
✅ নির্ধারিত পার্টনারের অনুমোদন ব্যতীত অর্থ উত্তোলন নিষিদ্ধ: কোনো পার্টনার ব্যবসার মূল অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমতি ছাড়া অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না।
✅ প্রতি মাসের নিরীক্ষা: প্রতিমাসে আর্থিক বিবরণী (ব্যালেন্স শিট, আয়-ব্যয় বিবরণী) পর্যালোচনা করতে হবে এবং সব পার্টনারকে জানাতে হবে।
✅ লাভ ও ক্ষতির হিসাব নির্ধারিত নিয়মে বণ্টন: ব্যবসার লাভ বা ক্ষতি পার্টনারদের শেয়ার অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মে বণ্টন করতে হবে এবং তা চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
✅ কর ও অন্যান্য আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা: ভ্যাট, ট্যাক্স এবং অন্যান্য আইনি লেনদেন যথাযথভাবে পরিশোধ করা নিশ্চিত করতে হবে।
✅ নির্ধারিত হিসাব রক্ষণাবেক্ষণকারী: একজন নির্দিষ্ট পার্টনার বা এক্সটার্নাল অ্যাকাউন্টেন্ট অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবেন এবং সমস্ত লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করবেন।
✅ জরুরি খরচের জন্য ফান্ড সংরক্ষণ: ব্যবসার জন্য একটি ইমার্জেন্সি ফান্ড থাকা উচিত, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
✅ স্বচ্ছতা বজায় রাখা: সমস্ত পার্টনারের জন্য লেনদেনের তথ্য স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে সবাই নিয়মিত আর্থিক অবস্থার বিষয়ে আপডেট থাকতে পারেন।
================
যদি কোনো পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চান, তাহলে কীভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে?
✅ নোটিশ পিরিয়ড: নির্ধারিত সময়ের (যেমন ৩-৬ মাস) পূর্বে ব্যবসা ছাড়ার ইচ্ছার কথা লিখিতভাবে জানাতে হবে।
✅ শেয়ার হস্তান্তর: পার্টনার তার শেয়ার অন্য পার্টনারদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
✅ বিনিয়োগ ফেরত: ব্যবসার নেট অ্যাসেট ভ্যালু অনুযায়ী পার্টনারের বিনিয়োগের অংশ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি।
✅ আইনি প্রক্রিয়া: ব্যবসা ছাড়ার পর কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হবে।
================
আইনগত ব্যবস্থা ও কর সংক্রান্ত নির্দেশনা
একটি আদর্শ পার্টনারশিপ চুক্তিতে নিম্নলিখিত আইনগত ও কর সংক্রান্ত বিষয়গুলি উল্লেখ করা প্রয়োজন:
✅ পার্টনারশিপ নিবন্ধন: ব্যবসাটি সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন করা উচিত, যেন এটি আইনগত সুরক্ষা পায়।
✅ ট্যাক্স আইডি ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন: কর সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ট্যাক্স আইডি নম্বর (TIN) ও ভ্যাট নিবন্ধন থাকা জরুরি।
✅ পার্টনারদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ: যদি ব্যবসায় কোনো দেনা বা আইনি সমস্যা হয়, তবে পার্টনারদের দায় কতটুকু হবে, তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
✅ ডিসপুট রেজোলিউশন মেকানিজম: কোনো আইনি সমস্যা হলে সেটি কীভাবে সমাধান করা হবে (আদালত, সালিশ বা মধ্যস্থতা) তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
✅ পার্টনারশিপের সমাপ্তি ও এক্সিট পরিকল্পনা: যদি ব্যবসা বন্ধ করতে হয়, তাহলে সম্পদের বণ্টন, দেনা পরিশোধ ও অন্যান্য সমাপ্তির নিয়মাবলী কী হবে, তা চুক্তিতে উল্লেখ করা উচিত।
✅ লিগ্যাল কমপ্লায়েন্স: সমস্ত সরকারি ও আইনগত নীতিমালা মেনে চলার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা টিম নিয়োগ করতে হবে।
এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে পার্টনারশিপ ব্যবসা আরও নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
================
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ
একটি আদর্শ পার্টনারশিপ চুক্তিতে ব্যবসার সফলতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কিছু প্রধান ক্ষেত্র তুলে ধরা হলো, যেখানে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে:
✅ আইনি পরামর্শ:
ব্যবসার গঠন, নিবন্ধন, চুক্তি প্রণয়ন, দায়বদ্ধতা নির্ধারণ এবং আইনগত জটিলতা এড়ানোর জন্য একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া, কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট ও ব্যবসার সমাপ্তির নিয়মাবলী ঠিক করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীর ভূমিকা অপরিহার্য।
✅ হিসাবরক্ষণ ও কর পরামর্শ:
পার্টনারশিপ ব্যবসার আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ, কর পরিশোধ, আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ এবং বাজেট পরিকল্পনার জন্য একজন একাউন্টেন্ট বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) নিয়োগ করা উচিত।
✅ বিনিয়োগ ও ফিনান্স পরামর্শ:
বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ, মূলধন ব্যবস্থাপনা, ঋণ গ্রহণ এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব তৈরির জন্য ফিনান্স এক্সপার্টের পরামর্শ প্রয়োজন।
✅ ব্যবসায়িক কৌশল ও মার্কেটিং পরামর্শ:
প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিশ্লেষণ, ব্র্যান্ড বিল্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট (CRM) এবং সেলস অপটিমাইজেশনের জন্য অভিজ্ঞ মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ বা কনসালট্যান্টের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
✅ তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শ:
অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট, পেমেন্ট সিকিউরিটি, ডাটা প্রটেকশন এবং সাইবার সিকিউরিটির জন্য একজন আইটি বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে।
✅ এইচআর ও ম্যানেজমেন্ট পরামর্শ:
স্টাফ নিয়োগ, কর্মীদের কাজের বণ্টন, বেতন কাঠামো, কর্মীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং মোটিভেশনের জন্য মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ (HR Expert) নিয়োগ করা দরকার।
✅ বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি পরামর্শ:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক মন্দা, আইনগত জটিলতা, বা হঠাৎ বড় ক্ষতি মোকাবিলায় কিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সে বিষয়ে একজন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞের (Risk Management Consultant) সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
✅ সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিক পরামর্শ:
ব্যবসার সরবরাহ ব্যবস্থা, গুদাম ব্যবস্থাপনা, আমদানি-রপ্তানি এবং সরবরাহ চেইনের অপটিমাইজেশন বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।
এই পরামর্শগুলো চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে ব্যবসা আরও সুসংগঠিত ও সুরক্ষিত থাকবে।
================
পার্টনারশিপ ব্যবসায় কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা
✅ চাকরির শর্তাবলী: কর্মচারীদের নিয়োগ, চাকরির সময়কাল, বেতন ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ চুক্তিতে উল্লেখ থাকা উচিত।
✅ কর্মঘণ্টা ও দায়িত্ব: কর্মচারীদের কাজের সময়সীমা, অতিরিক্ত সময়ের নীতি এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে।
✅ পারফরম্যান্স মূল্যায়ন: কর্মীদের কাজের মান বিশ্লেষণ এবং পুরস্কার বা প্রমোশনের নিয়মাবলী থাকা দরকার।
✅ নিষ্পত্তির নিয়ম: কর্মচারী যদি চাকরি ছাড়তে চান বা তাদের বরখাস্ত করতে হয়, তাহলে প্রক্রিয়া কী হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।
✅ শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধি: কর্মক্ষেত্রে আচরণ, ড্রেস কোড, এবং শৃঙ্খলা রক্ষার নিয়মাবলী থাকা প্রয়োজন।
✅ অভিযোগ ও সমাধান প্রক্রিয়া: কর্মচারীদের অভিযোগ জানানোর এবং তা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত।
✅ গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা: কর্মচারীদের ব্যবসার গোপনীয় তথ্য প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ থাকা দরকার।
✅ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন: কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের জন্য পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে পার্টনারশিপ ব্যবসা আরও নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
================
আপনি পার্টনারশিপ ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো খুব ভালোভাবে উল্লেখ করেছেন। পার্টনারশিপ ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য শুধু সমমনা পার্টনার থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক নীতিমালা, শৃঙ্খলা, এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে পার্টনারশিপ ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য কিছু মূলনীতি এবং পরামর্শ দেওয়া হলো:
১. লিখিত চুক্তি (Agreement) এবং টার্মস এন্ড কন্ডিশন:
> পার্টনারশিপ শুরুর আগেই একটি লিখিত চুক্তি তৈরি করুন। এই চুক্তিতে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, এবং প্রত্যেক পার্টনারের দায়িত্ব ও অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
> লস এবং প্রফিট শেয়ারিং রেশিও ঠিক করুন।
> সেফ এক্সিট পলিসি নির্ধারণ করুন, যাতে কোনো পার্টনার চাইলে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
২. স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা:
> প্রত্যেক পার্টনারের দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করুন।
> নিয়মিত মিটিং এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের অগ্রগতি এবং আর্থিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করুন।
> আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়ের সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখুন।
৩. মানি ম্যানেজমেন্ট পলিসি:
> ব্যবসায়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করুন।
> বিনিয়োগ, লাভ বণ্টন, এবং খরচের ক্ষেত্রে আগে থেকে নিয়ম ঠিক করুন।
> আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি আলাদা ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন।
৪. নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ:
> একজনকে লিডার বা আমির হিসেবে নির্ধারণ করুন, যিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবসায়ের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হবেন।
> লিডারকে নিয়মিতভাবে অন্যান্য পার্টনারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
> গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যৌথভাবে আলোচনা করে নেওয়া উচিত।
৫. দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য শাস্তির বিধান:
> কোনো পার্টনার যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার জন্য জরিমানা বা শাস্তির বিধান রাখুন।
> এই বিধানগুলো চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
৬. সমমনা পার্টনার নির্বাচন:
> পার্টনারশিপে এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন করুন যাদের সাথে আপনার মূল্যবোধ, লক্ষ্য এবং কাজের নীতি মিলে।
> পার্টনারের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বিবেচনা করুন, যাতে ব্যবসায়ের বিভিন্ন দিক ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়।
৭. নিয়মিত রিভিউ এবং মূল্যায়ন:
> নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যবসায়ের অগ্রগতি এবং পার্টনারশিপের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করুন।
> প্রয়োজন হলে নীতিমালা এবং চুক্তিতে পরিবর্তন আনুন।
৮. কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম:
> কোনো মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য একটি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করুন।
> এই প্রক্রিয়া চুক্তিতে উল্লেখ করুন, যাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধান করা যায়।
৯. ব্যবসায়িক পরিকল্পনা (Business Plan):
> একটি সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন, যাতে ব্যবসায়ের লক্ষ্য, টার্গেট মার্কেট, মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি, এবং আর্থিক প্রজেকশন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
> এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করুন।
১০. পেশাদার পরামর্শ নিন:
> ব্যবসায়িক চুক্তি তৈরি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একজন আইনজীবী এবং হিসাবরক্ষক এর পরামর্শ নিন।
> পেশাদার পরামর্শ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কমাতে এবং সঠিক পথে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।
শেষ কথা:
পার্টনারশিপ ব্যবসায় সফল হতে হলে শুধু আস্থা এবং বন্ধুত্বই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক নীতিমালা, শৃঙ্খলা, এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এই নীতিগুলো মেনে চলেন এবং সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাহলে পার্টনারশিপ ব্যবসায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
======
কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম (Conflict Resolution Mechanism) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা ব্যবসায়িক পার্টনারশিপে কোনো মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি কার্যকরী কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম পার্টনারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখে এবং ব্যবসায়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। নিচে কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম কীভাবে কাজ করে এবং চুক্তিতে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজমের ধাপসমূহ:
১. প্রাথমিক আলোচনা (Negotiation):
> মতবিরোধ দেখা দিলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট পার্টনারদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করুন।
> এই পর্যায়ে উভয় পক্ষ তাদের সমস্যা এবং চাহিদা নিয়ে আলোচনা করে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
২. মধ্যস্থতা (Mediation):
> যদি সরাসরি আলোচনায় সমাধান না হয়, তাহলে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী (Mediator) নিয়োগ করুন।
> মধ্যস্থতাকারী উভয় পক্ষের কথা শুনে এবং তাদের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করার চেষ্টা করেন।
৩. আরবিট্রেশন (Arbitration):
> মধ্যস্থতার পরেও যদি সমাধান না হয়, তাহলে আরবিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়।
> আরবিট্রেশনে একজন বা একাধিক নিরপেক্ষ আরবিট্রেটর (Arbitrator) নিয়োগ করা হয়, যিনি উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে একটি সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং বাধ্যতামূলক হতে পারে।
৪. আইনি পদক্ষেপ (Litigation):
> যদি উপরের সব পদ্ধতিতে সমাধান না হয়, তাহলে শেষ উপায় হিসেবে আদালতে মামলা করা যেতে পারে।
> তবে আদালতে মামলা করা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল, তাই এটিকে শেষ অপশন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
>> চুক্তিতে কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম অন্তর্ভুক্ত করার উপায়:
চুক্তিতে কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন ক্লজ (Conflict Resolution Clause):
>> চুক্তিতে একটি আলাদা ক্লজ যোগ করুন, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে কীভাবে তা সমাধান করা হবে।
এই ক্লজে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করুন:
> প্রাথমিক আলোচনা (Negotiation) এর প্রক্রিয়া।
> মধ্যস্থতা (Mediation) এর জন্য মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের পদ্ধতি।
> আরবিট্রেশন (Arbitration) এর জন্য আরবিট্রেটর নির্বাচনের পদ্ধতি এবং আরবিট্রেশন এর স্থান ও নিয়ম।
> আদালতে যাওয়ার আগে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক কিনা।
২. মধ্যস্থতাকারী এবং আরবিট্রেটর নির্বাচন:
> চুক্তিতে উল্লেখ করুন যে মধ্যস্থতাকারী এবং আরবিট্রেটর কীভাবে নির্বাচিত হবেন।
> উদাহরণ: উভয় পক্ষ যৌথভাবে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী বা আরবিট্রেটর নির্বাচন করবেন। যদি তারা একমত না হতে পারেন, তাহলে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান (যেমন: বাংলাদেশ আর্টিবিট্রেশন কাউন্সিল) থেকে নির্বাচন করা হবে।
৩. আরবিট্রেশনের নিয়ম:
> চুক্তিতে উল্লেখ করুন যে আরবিট্রেশন কোন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে (যেমন: বাংলাদেশের আর্টিবিট্রেশন আইন, ২০০১)।
> আরবিট্রেশন এর স্থান (যেমন: ঢাকা বা অন্য কোনো শহর) এবং ভাষা (যেমন: বাংলা বা ইংরেজি) নির্ধারণ করুন।
৪. সময়সীমা নির্ধারণ:
> মতবিরোধ সমাধানের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করুন। উদাহরণ: প্রাথমিক আলোচনা ১৫ দিনের মধ্যে, মধ্যস্থতা ৩০ দিনের মধ্যে, এবং আরবিট্রেশন ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
৫. খরচ বহন:
> চুক্তিতে উল্লেখ করুন যে মধ্যস্থতা এবং আরবিট্রেশনের খরচ কীভাবে বহন করা হবে। সাধারণত উভয় পক্ষ সমানভাবে খরচ বহন করে।
৬. আইনি পদক্ষেপের শর্ত:
> চুক্তিতে উল্লেখ করুন যে আদালতে যাওয়ার আগে উপরের সব ধাপ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক হবে।
>> কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজমের সুবিধা:
> দ্রুত এবং কম খরচে মতবিরোধ সমাধান করা যায়।
> পার্টনারদের মধ্যে সম্পর্ক বজায় থাকে এবং ব্যবসায়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
> আদালতের চেয়ে গোপনীয়তা বজায় থাকে।
সর্বোত্তম অনুশীলন:
> চুক্তি তৈরি করার সময় একজন আইনজীবীর সহায়তা নিন, যাতে কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন ক্লজটি আইনগতভাবে শক্তিশালী এবং কার্যকরী হয়।
> পার্টনারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করুন।
> একটি সঠিক কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন মেকানিজম পার্টনারশিপ ব্যবসায়ের সাফল্য এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
No comments:
Post a Comment