শীতকালে ছাদ ঢালাই দিচ্ছেন সাবধান
শীতকালে ছাদ ঢালাই করার সময় কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা হতে পারে, যা এড়াতে আগে থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত শীতের তাপমাত্রা কম থাকায় ঢালাইয়ের সিমেন্ট ও কংক্রিটের গুণগত মানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। নিচে শীতকালে ছাদ ঢালাইয়ের প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলো:
1. কংক্রিটের জমাট বাঁধতে দেরি হওয়া:
শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় কংক্রিটের হাইড্রেশন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে সিমেন্টের শক্ত হওয়ার সময় বেশি লাগে।
ঢালাইয়ের পরে কংক্রিট দ্রুত শুকিয়ে গেলে, বিশেষত রাতে তাপমাত্রা বেশি কমে গেলে, তাতে ফাটল ধরার সম্ভাবনা থাকে।
3. জমাট বাঁধার আগে পানি জমে যাওয়া:
শীতকালে ঘন কুয়াশা বা বৃষ্টির কারণে কংক্রিটের উপরে পানি জমতে পারে, যা ঢালাইয়ের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে।
4. তাপমাত্রা-সম্পর্কিত দুর্বলতা:
শীতকালে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে কংক্রিটের গুণগত মান দুর্বল হতে পারে।
5. সঠিক কাঠামো ধরে রাখা কঠিন হতে পারে:
শীতকালে কংক্রিটের প্রসারণ ও সংকোচনের কারণে কাঠামো সঠিকভাবে বসানোতে সমস্যা হতে পারে।
সমাধান ও প্রতিকার
ঢালাইয়ের আগে তাপমাত্রা যাচাই করুন এবং সম্ভব হলে ৫-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিশ্চিত করুন।
ঢালাইয়ের পরে পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়।
কিউরিংয়ের জন্য উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন।
শীতকালীন বিশেষ সিমেন্ট বা এডমিশন ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করুন।
অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর পরামর্শ নিন।
সঠিক প্রস্তুতি নিলে শীতকালেও মানসম্পন্ন ছাদ ঢালাই করা সম্ভব।
============
ছাদ ঢালাইয়ের সঠিক নিয়মঃ
=============
সকলে জেনে রাখুন ,নিজের কাজে প্রয়োজন হবে!!
** ছাদে মেইন রড দেওয়া হয় শর্ট ডিরেকশন বরাবর অর্থাৎ যে পাশে দৈর্ঘ্য কম যে সেদিক বরাবর প্রথমে রড বিছাতে হবে। এর উপরে...
** বাইন্ডার রড দিতে হয় লং ডিরেকশন বরাবর অর্থাৎ যে পাশে দৈর্ঘ্য কম। মেইন রডের উপরে আড়াআড়ি বাইন্ডার বসবে।
** মেইন রড খাঁচার বাইরে অর্থাৎ উপরে-নিচে থাকে ।
** স্লাবের প্রান্তে এক্সট্রা টপ এর পরিমান দেওয়া হয় L/4, স্ল্যাবের দৈর্ঘ্যের ৪ ভাগের ১ ভাগ
স্লাব বা ছাদের মাঝের সাপোর্টের পাশে এক্সট্রা টপের পরিমান দেওয়া হয় L/3
* স্লাবের প্রান্তে ক্রাংক এর পরিমান দেওয়া হয় L/5, অর্থাৎ স্ল্যাব যদি ২০ ফিট হয় তাহলে ক্রাংক রড ৪ ফিট করে কাটতে হবে।
*স্লাব বা ছাদের মাঝের সাপোর্টের পাশে ক্রাংক এর পরিমান দেওয়া হয়। L/4।
বি:দ্র: কোথায় কি ব্যবহার করতে হবে তা সাধারনত ডিজাইনার নির্ধারন করে থাকেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ডিজাইনে তথ্য দেওয়া না থাকলে এই নিয়মে ব্যবহার করবেন। বাস্তবে কাজ করার সময় কম-বেশি হতে পারে।
=========
=============
ছাদ ঢালাইয়ের আগে একজন ইঞ্জিনিয়ারের নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি,
কারণ এগুলো ভবনের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে:
ছাদের নকশা (ড্রয়িং) এবং কাঠামোর ডিজাইন বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে কিনা।
ডেড লোড ও লাইভ লোডের হিসাব সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা।
ব্যবহৃত রড, সিমেন্ট, বালু, পাথর, এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা।
রডের ওভারল্যাপিং (lapping) এবং সঠিক বাঁক (bending) নিশ্চিত করা।
শাটারিং বা ফর্মওয়ার্ক সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে কিনা।
ফর্মওয়ার্কের কাঠামো শক্তপোক্ত কিনা এবং লিকেজ ফ্রি কিনা।
ফর্মওয়ার্কের নিচের সাপোর্ট বা সাপোর্টিং কাঠামো যথেষ্ট মজবুত কিনা।
ফর্মওয়ার্কের উপর প্রয়োজনীয় তেল বা রিলিজ এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।
রডের যথাযথ স্পেসিং নিশ্চিত করা।
কংক্রিট কাভার ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।
নকশা অনুযায়ী রডের ডায়ামিটার সঠিক কিনা।
কংক্রিটের মিশ্রণের অনুপাত (Mix Design) সঠিক কিনা (যেমন: M20, M25 ইত্যাদি)।
কংক্রিট মিক্স করার সময় যথাযথ পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।
কংক্রিটের স্লাম্প টেস্ট (Slump Test) করা হয়েছে কিনা।
ঢালাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিব্রেটর (Concrete Vibrator) সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা।
কংক্রিট পাম্প বা মিক্সার মেশিন পর্যাপ্ত এবং কার্যক্ষম কিনা।
ঢালাইয়ের সময় কংক্রিট সমানভাবে বিতরণ করা হচ্ছে কিনা।
বায়ু ফাঁক (Air Void) এড়াতে যথাযথ ভিব্রেটিং করা হয়েছে কিনা।
ঢালাইয়ের পর সমতলতা নিশ্চিত করা।
ঢালাইয়ের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানিপ্রদান শুরু করতে হবে।
কিউরিং কমপক্ষে ৭-১৪ দিন সঠিকভাবে করা।
শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা।
ঢালাইয়ের সময় নির্মাণ সাইটে প্রবেশ সীমিত করা।
==========
ঢালাইয়ের আগে অবশ্যই একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ার কে সববিষয় ভালো করে তদারকি করতে হবে...
১) ফর্ম ওয়ার্ক ঠিক আছে কিনা Reinforcement ঠিক আছে কিনা বা ড্রয়িং অনুসারে প্রতিটি কলামের রড ঠিক আছে কিনা।
২) রেডি-মিক্স কংক্রিট ব্যবহার করে নির্মাণ কাজের গতি বৃদ্ধি পায়।তাই রেডি মিক্স ব্যবহারে পরিমাণ ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করতে হবে।
৩)খনিজ অ্যাডমিক্সার, সিমেন্টিং গুণসম্পন্ন মালামাল ব্যবহার এবং সঠিক মিশ্রণ ও হ্যান্ডলিং করা হয় বলে সিমেন্ট খরচ কমানো যায়। সাধারণত ১০-১২% সিমেন্ট খরচ কম হয়।
৫) প্রতিটি বীমের Rod ডায়া অনুসারে ঠিক আছে কিনা
৬) কোন কাজে ভুল থাকলে তা পুণরায় সঠিক করে করা হয়েছে কিনা।
৭) Shuttering sheet পরিস্কার আছে কিনা এবং তৈল দেয়া হয়েছে কিনা।
৮) রডে মরিচা থাকলে তাহা পরিস্কার করা হয়েছে কিনা। ড্রয়িং অনুসারে রড বাধা হয়েছে কিনা ।
৯) সময়মতো অধিক পরিমাণ কংক্রিট স্থানান্তর করা যায় জন্য সঠিক রেডিমক্স সাজেস্ট করতে হবে।
============
(১) ঢালাই চলা অবস্থায় ঘটে মজার একটা ঘটনাঃ গর্তের নিচে কিছুটা কাঁদা জমে থাকে ফলে যখন ট্রিমী পাইপের মাধ্যমে কংক্রিট মসলা ঢালা হয় তখন কাদার চেয়ে কংক্রিট এর মশলা ওজনে ভাড়ী হওয়ার কারনে নিচে চলে যায় আর কাদা উপরে উঠে আসে।এভাবে আসতে আসতে সমস্ত কাদা একেবারে মাথায় উঠে আসে এবং সলিড কংক্রিট এর ঢালাই নিচে জমে শক্ত হয়ে যায়।সেক্ষেত্রে পাইলের মাথা দুর্বল হয়।
(২) পাইল ক্যাপের রড বাধাঃ পাইল ক্যাপ তৈরি করা অর্থাৎ পাইলের মাথার সাথে পাইল ক্যাপ বা কলামের গোড়া শক্ত ভাবে আটকানোর জন্য পাইলের মাথার কিছু অংশ ভেঙ্গে রড বের করা হয়।পাইলের মাথার এই রডের সাথে পাইল ক্যাপ বা কলামের রডকে দৃঢ়ভাবে আটকানোর জন্য পাইল এর মাথার রডের প্রয়োজন হয়।একটি কলাম সাধারনত ১টি থেকে দশ টিরও অধিক পাইলের সমন্বয়ে দাডিয়ে থাকে। আর এই পাইলগুলোকে একটা কলামের সাথে বেধে রাখে পাইল ক্যাপ। এই ক্যাপ বাধার জন্য পাইলের মাথা ভাঙ্গা খুবই জরুরি।




No comments:
Post a Comment